হেলভেটাস কো-অপারেশন ও জার্মান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের বাস্তবায়নে, ইকো সুন্দরবন প্রকল্পের আয়োজনে।
আজ ২০/১১/২০২৫ রোজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩ ঘটিকায় বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদ হলরুমে পলিথিন প্লাস্টিক ব্যবহার দূষন প্রতিরোধে ব্যবসায়ীদের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি সহ বক্তারা বলেন
বর্তমান সময়ে পলিথিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
বাজার থেকে কেনাকাটা, খাদ্য প্যাকেজিং কিংবা ঘরের বিভিন্ন কাজে পলিথিনের ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু এই বহুল ব্যবহৃত বস্তুটি পরিবেশের জন্য এক বিশাল বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমাদের ভাবনা-চিন্তা করা উচিত। এই প্রতিবেদনে পলিথিনের ক্ষতিকর দিকগুলো এবং কেন এই ক্ষতিকর বস্তুটির ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন পলিথিন মূলত পলিমারজাতীয় এক ধরনের প্লাস্টিক যা মাটির মধ্যে শত শত বছরেও পচে না।
এটি জমির গুণগত মান নষ্ট করে দেয় এবং মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়। পলিথিনের কারণে মাটি তার স্বাভাবিক পানি শোষণ ক্ষমতা হারায়, ফলে জমিতে পানি জমে থাকে এবং ফসলের ক্ষতি হয়।
পলিথিন বর্জ্য পানির মধ্যে মিশে গিয়ে নদী, সমুদ্র এবং অন্যান্য জলাশয়ের পানি দূষিত করে। পলিথিনের অংশবিশেষ মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা খাবার ভেবে খেয়ে ফেলে। এটি তাদের হজমতন্ত্রের ভেতরে আটকে গিয়ে ধীরে ধীরে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়। অনেক সামুদ্রিক কচ্ছপ, মাছ এবং পাখি পলিথিন খাওয়ার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
পলিথিন জ্বালিয়ে ফেলা হলে বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।
এই গ্যাসগুলো পরিবেশের ক্ষতি করে এবং মানুষের শ্বাসযন্ত্রের রোগসহ নানা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ডাইঅক্সিন ও ফিউরানের মতো ক্ষতিকর পদার্থগুলো ফুসফুসের রোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় পলিথিনের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের খাবার ও পানিতে মিশে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সারসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি জনগণ তাদের আচরণ পরিবর্তন না করে, তবে সরকার একা এই যুদ্ধে জিততে পারবে না। পলিথিন-প্লাস্টিকের ব্যবহারের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের খাবার এবং পানিতে প্রবেশ করে, যা ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগ সৃষ্টি করছে। প্লাস্টিকের এই মাইক্রোপার্টিকলগুলো শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করছে, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।
একজন মা কিংবা বাবা হিসেবে এ ধরনের বিষাক্ত অভ্যাস বন্ধ করা জরুরি।”
পলিথিনের বিকল্প সবসময়ই ছিল, কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করতে আমাদের অভ্যাসগত অনীহা রয়েছে। আপনার দাদা বা বাবা বাজারে গেলে চটের ব্যাগ নিয়ে যেতেন। কিন্তু এখন গাজরের জন্য এক ব্যাগ, মরিচের জন্য আরেক ব্যাগ—এভাবেই পলিথিনের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে। এটা শুধু আমাদের পরিবেশ নয়, আমাদের সংস্কৃতিকেও দূষিত করছে। পলিথিনের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলো শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি কর।
পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আমাদের বিকল্প পণ্য বেছে নেওয়া উচিত। কাপড়ের ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণগুলো পলিথিনের চেয়ে অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। এগুলো সহজেই পুনঃব্যবহার করা যায় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।
পলিথিনের ব্যবহার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার বন্ধ করতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। পলিথিন ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ পলাশ আহমেদ, উপস্থিত ছিলেন বামনা উপজেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ আকন রানা, উপস্থিত ছিলেন বামনা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ মাহমুল হাসিব, বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির, সিঃ সাংবাদিক মোঃ গোলাম কিবরিয়া, বামনা উপজেলা ফার্মেসী এ্যসোসিয়েসনের সভাপতি মোঃ বাসির মোল্লা, বামনা সদর আর রশিদ ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো জাকির হোসাইন, বরগুনা জেলা সন্ময়কারী অনুপ রায় ইকো সুন্দর, মোঃ খলিলুর রহমান কো-অর্ডিনেটর বরগুনা জেলা, মো: নাসির মোল্লা, সভাপতি মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, পড়ে ৩০ জন ব্যবসায়ির মধ্যে পঞ্চাশ টি করে পাটের ব্যাগ বিতরন করা হয়। প্রমুখ।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত