
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতবাড়ির ১১টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-সদরের একাংশ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে শীত নিবারণের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরে আরো পর্যায়ক্রমে আরো সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ন আহ্বায়ক এড. আবু জাফর সরকার, তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির ১ নং যুগ্ন আহবায়ক শাজাহান মোড়ল, তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জুয়েল, শ্রীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরাফত হোসেন, তেলিহাটি ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সভাপতি শহীদউল্লাহ সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত গতকাল মঙ্গলবার(২৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জৈনা বাজার কলেজ রোডের পাশে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রবির এক ভাড়া বাসায় এ আগুনের সূত্রপাত ।খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক হিসাব মতে, অগ্নিকাণ্ডে ৭০–৮০ লাখ টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভাড়াটিয়া ভুক্তভোগী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে আগুন লেগে যায়। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারিনি। আমি গার্মেন্টসে চাকরি করে সারা জীবনে যা সঞ্চয় করেছিলাম আমার সব শেষ। আমার নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, ফার্নিচার, স্বর্ণালংকারসহ সব কিছুই পুড়ে গেছে।
ভাড়াটিয়া কাঠমিস্ত্রি জামাল জানান, আমারা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম । এ সময় বাড়ির উত্তর পাশে একটি কক্ষে প্রথমে আগুন লাগে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের অন্য ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের মানুষজন আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। এর আগেই আমার ঘরে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম রবি বলেন,সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভাড়া বাসার একটি তালাবদ্ধ কক্ষে হঠাৎ লাগে। মুহুর্তেই আগুন পাশের আরো ১১টি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষনে ওইসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র , নগর টাকা, স্বর্ণালংকার এবং ফ্রিজসহ মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকান্ডে আমার ১১টি ঘরসহ ভাড়াটিয়াদের পরিবারের প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ১১টি পরিবারের প্রত্যেকেই স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত