দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর অবারিত আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই ঈদকে আরও উৎসবমুখর ও অর্থবহ করতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ (০১ এপ্রিল ) বরগুনার বামনা উপজেলার ৩ নং রামনা ইউনিয়ন খোলপটুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিঃ মিলনায়তনে উপজেলা বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের এর আয়োজনে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে হাফেজ মাঃ লিমন শরিফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বামনা উপজেলা শাখার আমির হাফেজ মাওঃ মোঃ সাইদুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক বাইতুল মাল সম্পাদক মোঃ আব্দুল জলিল আকন্দ, ছাত্র শিবিরের বরগুনা জেলা সভাপতি হাঃ মোঃ সুমন আব্দুল্লাহ, সাবেক সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামী বামনা উপজেলা শাখার সেক্রেটারী মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর, সাবেক আমির মোঃ হারুন অর রশিদ, সহকারী সেক্রেটারী মাওঃ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শামীম প্রমুখ।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার অফুরন্ত কল্যাণ বিলিয়ে, পবিত্রতার বন্ধনে অবারিত খুশির বার্তা নিয়ে অতিবাহিত হয়েছে ঈদ। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বামনা উপজেলার পক্ষ থেকে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে জানাই ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা—ঈদ মোবারক।”
নেতৃবৃন্দ বলেন প্রায় দেড়যুগ ধরে আমাদের বুকের ওপর চেপে বসা জগদ্দল পাথর সরিয়ে আজ আমরা স্বাধীনভাবে ঈদ পালন করতে পারছি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নাগরিক অধিকার ফিরে পেয়েছি, নির্ভয়ে আমদের মতামত প্রকাশ করতে পারছি, সেই জুলাই শহীদ ও গাজীদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান কামনা করছি। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের দ্রুত আরোগ্য লাভের দোয়া করছি।
আজ মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যেই মুহূর্তে আমরা ঈদ উদযাপন করেছি ঠিক সেই সময় বিশ্বের নানা প্রান্তে আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের ওপর চলছে নির্মম হত্যাযজ্ঞ, দুঃসহ নির্যাতন আর অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের অধ্যায়।
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হচ্ছে ফিলিস্তিনের গাজার নিরীহ মুসলিম জনগণ। বাদ যাচ্ছে না নিষ্পাপ শিশুরাও। যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে উদ্বাস্তু অবস্থায় থাকা গাজাবাসীদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আধিপত্যবাদী অবৈধ দখলদার সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল।
শুধু ফিলিস্তিনেই নয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের নির্ভিঘ্নে ঈদ উদ্যাপনে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন জালিমদের হাত দুর্বল এবং মজলুমদের হাত শক্তিশালী করে দেন।”
নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সকল স্তরের জনশক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা জুলাইয়ে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছি, তবে এই পথ রচিত হয়েছে অসংখ্য ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে। স্বাধীন বাংলাদেশ ফিরে পাওয়ার সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই গৌরবময় জুলাই শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দুঃখ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। এ ছাড়াও, আমাদের নিজেদের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের প্রতিও দায়িত্ব রয়েছে।
ঈদের আনন্দ তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার মাধ্যমে আমরা তাদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পারি। এই জন্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে সকল স্তরের জনশক্তিকে নিজ নিজ এলাকায় পরিবার-পরিজন, শহীদ পরিবার ও আহত গাজীদের সাথে ঈদ উদ্যাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।"
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত