
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন চকঢোষ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেড় একর জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
জানা যায়, কাচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সানাউল্লাহ পিতা: মৃত নাজমুল হক দাগ নং ৬৩০৮ ও ৬৩১৩ এর খতিয়ান নং ১২৪৩ অনুযায়ী প্রায় দেড় একর জমির মালিক। বর্তমানে তিনি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় তার জমি দেখাশোনা করেন তার চাচা মহসিন সিকদার।
মহসিন সিকদার জানান, জমির একটি অংশ থেকে ২০ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে আকবর নামের এক ব্যক্তির কাছে দেওয়া হয় এবং তাকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে আকবর দলিল সম্পন্ন না করে পার্শ্ববর্তী মো. কামাল হোসেন পিতা: লাল মিয়া হাওলাদার এর কাছে স্ট্যাম্পের চুক্তির মাধ্যমে ওই জমির দখল হস্তান্তর করেন। এরপর কামাল হোসেন জমিতে ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
এ বিষয়ে কামাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, জমির মালিক সানাউল্লাহ ও তার চাচা মহসিন সিকদারের মাধ্যমে আকবরের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের চুক্তির ভিত্তিতে তিনি জমির বায়না চুক্তি করেন এবং দখল নেন। সানাউল্লাহ ঢাকায় থাকায় তখন দলিল সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে মালিকপক্ষ তাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী রিপন পিতা: নিরব জোরপূর্বক সন্ত্রাসী কায়দায় জমিটি দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং কাগজপত্র যাচাই করে তাকে জমির দখল দেওয়া হয়। কিন্তু পরে আবার রিপন তার বসতঘরে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ অবস্থান নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
জমির মালিক সানাউল্লাহর চাচা মহসিন সিকদার বলেন, “জমির প্রকৃত মালিক আমরা। এখনো কাউকে দলিল দেওয়া হয়নি। তবে কামাল হোসেনের সঙ্গে বায়না চুক্তি করে তাকে জমির দখল দেওয়া হয়েছে। রিপন জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে, তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রিপনের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে রিপনের স্ত্রী জানান, জমিটি তার স্বামী আকবরের স্ত্রী নুরনাহারের কাছ থেকে দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন।
এ বিষয়ে আকবরের স্ত্রী নুরনাহার বলেন, “জমিটি আমার স্বামী আকবর কিনেছিলেন, তবে দলিল সম্পন্ন করেননি।
আমাদের পারিবারিক বিরোধ থাকায় রিপন আমাকে বলে, তোমার স্বামীর সঙ্গে যেহেতু আলাদা থাকো, আমি তোমাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেব। সেই কথা বলে আমার কাছ থেকে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। কিন্তু যেহেতু আমার স্বামী জমির দলিল করেনি, তাই আমি কীভাবে দলিল দেব? জমির প্রকৃত মালিক সানাউল্লাহ যাকে দলিল দেবেন, সেই প্রকৃত দাবিদার।”
স্থানীয় সালিশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মারুফ মিয়া। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান করে কামালকে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন আবার কেন রিপন ঝামেলা করছে বুঝতে পারছি না।”
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধ দ্রুত প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত