ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ ছাড়াই অনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা রবিবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। একপক্ষের বর্জন ও অনুপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় অনির্বাচিত কমিটির কাছে এই দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন। জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভোট ছাড়াই ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে অনির্বাচিত কমিটির দায়িত্বভার গ্রহণ নিয়ে হতবাক সাংবাদিকমহলসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও পদাধিকার বলে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব সভাপতি মুফিদুল আলমের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কারণে একটি পক্ষ নিজেদের মত পূর্ণ প্যানেল প্রেস ক্লাবের দায়িত্বভার গ্রহণ করার সুযোগ পায়। তবে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রেস ক্লাবের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পরবর্তী
কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানান হয়েছে।
দায়িত্বভার গ্রহণ করা প্রেস ক্লাব কর্মকর্তারা হচ্ছেন- সহ সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ও নওয়াব আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল, যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহজাহান, ক্রীড়া সম্পাদক আবু সালেহ মো. মুসা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক শরীফুজ্জামান টিটু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এএসএম হোসাইন শাহিদ, নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক আদিলুজ্জামান আদিল, নির্বাহী সদস্য পদে অমিত রায়, ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ কামাল, মীর গোলাম মোস্তফা, ড. মোহাম্মদ নূরুল্লাহ, নিয়ামুল কবীর সজল, মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মতিন। পদাধিকারবলে এই কমিটির সভাপতি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম।
একই প্যানেলভুক্ত অনির্বাচিত এই কমিটির সদস্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদপন্থি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামীপন্থি ইউনিয়নের সদস্য রয়েছেন। বিএনপি জামায়াতপন্থি সাংবাদিক ইউনিয়নের ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ গত ১৫ বছর ধরে একই প্যানেলে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন করেছেন।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও একই প্যানেলভুক্ত নেতৃবৃন্দ নির্বাচন ছাড়া বিনা ভোটে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের দায়িত্বভার নিলেন। দায়িত্বভার গ্রহণকালে অপর প্যানেলের সদস্যরা যোগ দেননি। ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব নির্বাচনে সিডিউল অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিল, ১৮ ডিসেম্বর বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ ও ২৭ ডিসেম্বর নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু মনোনয়ন জমাদানের দিন একপক্ষকে বাধাবিঘ্ন ও মনোনয়ন জমাদান কক্ষে তালা লাগানো ও রিটার্নিং অফিসারকে হুমকি প্রদানসহ ৩ নির্বাচন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগের ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সভা পিছিয়ে ২ জানুয়ারি করা হয়।
বার্ষিক সাধারণ সভায় পদত্যাগকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ একই সভায় ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণের কথা ছিল। এর আগে প্রেস ক্লাব নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাইফুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও ক্লাব সভাপতি মুফিদুল ইসলাম এক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিপক্ষের প্যানেলকে অবৈধ ঘোষণা করা যেতে পারে বলে মত দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানালে ধূম্রজালের উদ্ভব ঘটে।
জেলা প্রশাসকের এরকম প্রতিবেদনের আলোকে বার্ষিক সাধারণ সভায় হট্টগোল শুরু হলে প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি ও সভার সভাপতি মোশারফ হোসেন সভা শেষ না করে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। পরে রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত অনির্বাচিত কমিটি পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী বলে প্রকাশ করা হয়।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত