মৌলভীবাজার জেলায় সিএনজি চালিত চুরি-ছিনতাই কমছেই না। ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকে। অনেক ক্ষেত্রে চালককে হত্যা করেও সিএনজি চুরির ঘর্টনা ঘটছে। বিগত দুই বছরে মৌলভীবাজার জেলায় সিএনজি চুরির ঘর্টনা ঘটেছে শতাধিক। অনেক ক্ষেত্রে চালককে হত্যা করেও সিএনজি চুরির ঘর্টনা ঘটছে। চোরচক্রকে আইনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার পাশ্ববর্তী সিলেট ও হবিগঞ্জকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ এক দশক ধরে গড়ে উঠেছে সিএনজি চোরী চক্র। এতে জড়িত আছেন চোরচক্রের সর্দার আবু তালেব ওরফে ল্যাংড়া মৌলভীবাজারের শ্রমিকনেতা সুলতানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তার সঙ্গে কিছু শ্রমিক নেতাও জড়িত। সম্প্রতি আবু তালেব ল্যাংড়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও বাকিরা ধর ছোঁয়ার বাহির থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
মৌলভীবাজার জেলায় এরকম হরহামেশাই ঘটছে সিএনজি চুরির ঘর্টনা। দিনে-দুপুরে কিংবা রাতে এই চক্র প্রতিনিয়তই সিএনজি চুরি করছে। এতে করে উদ্বিগ্ন চালকরা। মৌলভীবাজার জেলার পার্শ্ববর্তী সিলেট ও হবিগঞ্জকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ এক দশক ধরে গড়ে উঠেছে সিএনজি চোরচক্র।
চৌমুহনা স্ট্যান্ড সিএনজি চালক মোঃ ফয়সল আহমদ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দাবি চোরচক্রের সর্দার আবু তালেব ওরফে ল্যাংড়াকে ক্রসফায়ার করা হয়। আমাদের জেলাতে সিএনজি চুরি কমে যাবে। সেই চুরি সিএনজি চোরচক্রের সর্দার আবু তালেব ল্যাংড়া এর কাছে চলে যায়। তার কাছ থেকে ১ লাখ দিয়ে আনতে হয়।
সিএনজি চালক মোহাম্দদ হারুনুর রশিদ জানান এক বছর এর আগে মৌলভীবাজার সদর ইসলামপুর আমার সিএনজি বাড়ি থেকে চুরি হয়। আমি সদর থানায় এসে একটি জিডি করি, তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরে পাইনি। ল্যাংড়া আমাকে বলে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে এসো গাড়ি ফেরত দিয়ে দিব। আর কোন যদি বাড়াবাড়ি করো গাড়ি দেওয়া যাবে না। এই সিএনজি চুরির পেছনের গডফাদারের নাম -ল্যাংড়া। দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা দিয়ে গাড়িটা ফেরত পাই।
সিএনজি চালক মুক্তার বলেন আমার বাসা থেকে গাড়ি সিএনজি গাড়ি চুরি হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজি করেছি সিএনজিটি পাইনি। আমার সাথে ল্যাংড়া ফোনে যোগাযোগ করে। আমার সিএনজিটা শায়েস্তাগঞ্জ পাওয়া যাবে ৩ লাখ টাকা বিকাশে দেওয়ার জন্য তারপর আমি আর কোন সমাধান পাই না।
মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আজিজুল হক সেলিম বলেন, মৌলভীবাজার জেলা সিএনজি পরিবহন ও শ্রমিক পরিবহন মালিক যারা রয়েছেন প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। চালক সারাদিন পরিশ্রম করে,বাড়িতে রাতে সি এন জি পাহারা দিতে হয়। যাতে সিএনজি চুরি না হয়। তারপরও যে চুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না, শহরে আবু তালেব এর গ্রুপ ল্যাংড়া নামে একটি চোরচক্রের রয়েছে। পুলিশ এ বিষয়টি ভালো করে জানেন দুর্ভাগ্যবশত এ চোর জেলের ভিতরে থেকে সিএনজি চুরি চালিয়ে যাচ্ছে। আসামী হিসেবে রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করে তাহলে সিএনজি চুরি বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে যতগুলো সিএনজি চুরি হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলাতে যে ঘর্টনাগুলো ঘটছে এবং প্রতিটা ঘর্টনায় আমরা নজর রেখেছি। ইতিমধ্যে আপনারা জানবেন আমরা ৫টা সিএনজি উদ্ধার করেছি। এবং আমরা প্রতিটি ঘর্টনায় সিলেট পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলা এই সিএনজি চুরির সাথে আমরা সম্পৃক্ত পাচ্ছি। আন্তঃজেলা সিএনজি চোরচক্রের তালিকা রয়েছে পুলিশের হাতে। তালিকাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এসব সিএনজি কেনাবেচার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকেও শনাক্তের কাজ চলছে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত