
গাজীপুরের শ্রীপুরে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি জুয়েলারি দোকানের তালা কেটে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় আড়াই কোটি টাকার মালামাল লুট ও চুরির ঘটনায় সুব্রত চন্দ্র দাসকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।
শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তায় মসজিদ গলিতে গৌরাঙ্গ দাসের মালিকানাধীন রিতা জুয়েলার্সের সামনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়-বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে কোটপরা এক নারী পায়েল সরকার দাঁড়িয়ে আছেন। এর কিছু সময় পর তার সঙ্গে কয়েকজন যুবক যোগ দেয়। এরপর পায়েলের নেতৃত্বে দোকানের সাইনবোর্ড টেনে নামাতে দেখা যায়। তালা কাটার বিশেষ যন্ত্র (গ্রাইন্ডিং মেশিন) দিয়ে যুবকরা শাটারের তালা কেটে ফেলেন। শাটার তুলে দোকানে ঢুকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র বাইরে আনতে নির্দেশনা দেন। পায়েল সরকার ও তার সহযোগীরা দোকানের ভেতরের মালামাল বের করেন। দোকানের সিন্দুকও বাইরে আনা হয়। পাশাপাশি শপিং ব্যাগে করে দোকানের স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই দোকানের সামনে 'সুব্রত চন্দ্র দাস' নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়।
দিনে দুপুরে স্বর্ণের দোকানে তালা কেটে লুটপাটে ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় সন্ধ্যার পরপরই ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছেন।
রিতা জুয়েলার্সের মালিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, দোকান বন্ধ রেখে মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে ছিলাম। হঠাৎ আরেক দোকানের কর্মচারী শাটার কাটার বিষয়টি আমাকে জানান। এসে দেখি দোকানের সব সোনা, রুপা ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। দোকানের আসবাবপত্র বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়। দোকানের শোকেসের ৩২ লাখ টাকার ১৬ ভরি স্বর্ণ, সিন্দুকে থাকা ১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্বর্ণ, নগদ ৫ লাখ টাকা ও ১৩০০ ভরি রুপা লুট হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।”
অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয়রা প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ সরকারের স্ত্রী পায়েল সরকারকে দায়ী করেছেন। তবে পায়েল সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো লুটপাটে জড়িত নই, যার জমি তার নেতৃত্বেই কাজ হয়েছে।”
দখলে থাকা দোকান মালিক হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ দোকাটি গৌরাঙ্গ দাসের কাছে কাছে ভাড়া দিয়েছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সুব্রত ও পায়েলের নেতৃত্বে আমার ভাড়াটিয়ার দোকানের শাটার ভেঙে মালামাল লুটপাট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সুব্রত চন্দ্র দাস বলেন, আপনি সামনাসামনি আসুন। কাগজপত্র দেখুন। মোবাইল ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বারিক জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা (নং–৬৭, ৩১ অক্টোবর) রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত