নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় শিশুদের মধ্যে ক্রিকেট খেলা নিয়ে শুরু হওয়া হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই জন গুরুতর আহত হন, যাদের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ জলঢাকা উপজেলার পাইটকা পাড়ার (সবুজ পাড়া) গ্রামের নয়ন ইসলাম (১১) ও কাওছার হোসেন (১৪) ক্রিকেট খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে দুই শিশুর মধ্যে ঝগড়া বাধে এবং নয়ন কান্নাকাটি করে বাড়ি ফিরে যায়। সে ঘটনাটি বাবা আমিনুল ইসলামকে জানালে প্রথমে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জেরে ৯ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমিনুল ইসলাম ও খলিল হোসেন উভয়ের পরিবারের মধ্যে সালিশি বৈঠক বসে। তবে সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে খলিল ও তার সহযোগীরা আমিনুলের পরিবারের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় আমিনুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। চুরি যায় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার। হামলায় আমিনুলের স্ত্রী নাজমা আক্তারকে মারধর করা হয় এবং তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রোমানার শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠে।
সংঘর্ষে আমিনুলের ছোট ভাই হামিদুল ইসলাম ও মা আমিরুন্নেছা গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাদের ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে হামিদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে জলঢাকা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার জলঢাকা থানার মামলা নম্বর ১৮ তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ইং। এ মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো, অভিযোগ উঠেছে যে অভিযুক্ত খলিল হোসেন ও তার লোকজন মামলা তুলে নিতে আমিনুলকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। একইসাথে ঘটনা ধামাচাপা দিতে খলিল তার জামাতা জহুরুল ইসলামকে বাদী দেখিয়ে গত ১৭ এপ্রিল আমিনুলসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন। যার জলঢাকা থানার মামলা নম্বর ২০, তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ইং।
এই বিষয়ে হামলার শিকার আমিনুল ইসলাম জানান, “আমার ছোট ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার বৃদ্ধা মা, আমার স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রীর উপরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
অপর মামলার বাদী জহুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা উদ্বেগজনক। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলামের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ফিরোজ খান জানান, এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শীঘ্রই আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত