শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল ২০২৫) নীলফামারী সদর উপজেলার বাইপাস মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুন্না রানী চন্দ। অভিযানকালে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারের দায়ে তিনটি যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ১,৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একইসঙ্গে জব্দ করা হয় তিনটি হাইড্রোলিক হর্ণ, যা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া, যানবাহনের চালকদের হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয় এবং পরিবেশগত সচেতনতা বাড়াতে চালকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও যানবাহনে স্টিকার লাগানো হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুন্না রানী চন্দ বলেন, “শব্দদূষণ একটি মারাত্মক পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত সমস্যা। উচ্চ শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপ ও হৃদরোগের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, “২০০৬ সালের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী হাইড্রোলিক হর্ণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা এই আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আছি। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও করছি।”
স্থানীয়রা এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাইপাস মোড় এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ণের বিকট শব্দের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা অসহনীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। এমন অভিযানের ফলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত