
গাজীপুরের শ্রীপুরে ফিল্মি স্টাইলে পিস্তল ঠেকিয়ে স্কুলের সামনে থেকে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণ করেছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাউসার আহমেদকে (২৮) পিস্তলসহ আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।
গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের হাজি প্রি-ক্যাডেট স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পরপরই ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগি স্কুলছাত্র ফেরদৌস আহমেদ (১৪) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।
অভিযুক্ত অস্ত্রধারী মো. কাউসার আহমেদ (৩০) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। এ ছাড়া এমদাদুল হক, নূরুল হক, মোস্তফাসহ কয়েকজন স্কুলছাত্রকে তুলে নিতে সহযোগিতা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা এক স্কুলছাত্রকে কয়েকজন যুবক মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছেন। স্কুলশিক্ষক রুবেলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করেন। এ সময় টি-শার্ট পরা অস্ত্রধারী ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলের শিক্ষক রুবেল হোসেনের দিকে পিস্তল তাক করে ভয় দেখান। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সহপাঠীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে।
নবম শ্রেণির ছাত্র হৃয়দ জানায়, স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই আমরা বাইরে যাই। হঠাৎ করে কয়েকজন যুবক এসে ফেরদৌসকে ধরে মারতে শুরু করে। এ সময় আমরা ডাকচিৎকার করলে শিক্ষকেরা এগিয়ে আসেন। এরপর আমরা তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করি। হঠাৎ করে একজন রুবেল স্যারের দিকে পিস্তল তাক করে, এরপর সবাই ভয় পেয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করি।
হাজি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ডাকচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে আমরা বাইরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখতে পাই। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করি। কিন্তু অস্ত্রধারীরা বেশ কয়েকবার ফায়ার করার চেষ্টা করে। যে সামনে আসবে তাকেই শেষ করে দেব বলে তারা। এরপর আমরা গুলির ভয়ে পিছু হটি।
অপহৃত স্কুলছাত্রের মামা নাদিম মাহমুদ বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমরা সবাই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ঘটনার দুই ঘণ্টা পর পুলিশের সহযোগিতা আমার ভাগিনাকে অপহরণকারী কাউসারের বাড়ি পাশ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। তবে তুলে নেওয়ার কারণ জানতে পারিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফেরদৌস বলেন, “আমি স্কুল থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারজন ছেলে আমাকে স্কুলের পাশে টেনে নিয়ে মারধর শুরু করে। তারপর চারজনের অভিভাবক এসে স্কুল থেকে এক কিলোমিটার দূরে তাদের বাসার সামনে নিয়ে যায়। এসময় আমাকে রাস্তায় মারতে মারতে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়েও মারধর করে। প্রতিবাদ করলে কাউসার বলে একবারে শুট করে দিব, কথা বলিস না। কি কারণে তারা আমাকে ধরে নিয়ে মারধর করছে এবং শুট করার হুমকি দিয়েছে আমি বলতে পারি না।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, খবর পেয়ে গতকালই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। রাতেই মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাত ১০টায় কাউসার আহমেদকে শ্রীপুর পৌর এলাকার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, অনলাইনে ওই পিস্তল কিনেছেন। ভয়ভীতি দেখানোর জন্য তিনি মুভমেন্ট করেছেন।
অভিযুক্তের বাড়ি তল্লাশি করে দুইটি ওয়াকিটকি, একটি চার্জার এবং যে পিস্তল দেখিয়েছিল সেটা পেয়েছি। পরীক্ষা করে দেখা যায় এটি নকল পিস্তল। কাউসারকে আদালতে পাঠানো হবে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত